অনলাইন গেম্বলিং - Nirapod.Online

অনলাইন গেম্বলিং

অনলাইন জুয়া হল ইন্টারনেটে পরিচালিত যেকোন ধরণের জুয়া। এর মধ্যে ভার্চুয়াল পোকারস, ক্যাসিনো এবং স্পোর্টস বাজিও  রয়েছে। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে, অনলাইন জুয়া জনপ্রিয়তা অর্জন করে; ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৫ টি  জুয়ার ওয়েবসাইট ছিল, তবে পরের বছরে তা বেড়ে ২০০ টি ওয়েবসাইট হয় । বিভিন্ন অনুমান অনুসারে, বিশ্বব্যাপী এই বাজারটি আজ  প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের। ইন্টারনেট জুয়া স্পষ্টত বৃদ্ধি পেয়েছে, গত ১৫ বছরে ১০-১৫% বার্ষিক ব্যয় বৃদ্ধি প্রকাশ করেছে, বর্তমানে ২৮০০ টিরও বেশি জুয়ার ওয়েবসাইট রয়েছে। 

 

বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া খেলা

 

বাংলাদেশের রক্ষণশীল সংস্কৃতির কারণে ঘোড়ার দৌড় ছাড়া সব জুয়া কার্যক্রম আইনীভাবে নিষিদ্ধ। বর্তমানে বাংলাদেশে কোনও অনলাইন ক্যাসিনো নেই যা দেশে আইনত পরিচালিত হতে পারে। তবুও, বেশ কিছু অফশোর অপারেটর বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের স্বাগত জানায়। জুয়াড়িদের বেশিরভাগই ছাত্র বা তরুণ হয়ে থাকে যারা  অনেকে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে সমস্ত অর্থ হারাচ্ছেন। অনলাইনে  বাজি খেলতে, জুয়াড়িদের প্রথমে একটি জুয়ার সাইটে নিবন্ধন করতে হয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের সাহায্যে খেলায় অংশ নিতে অর্থ জমা করতে হয়। যাদের  কাছে ক্রেডিট কার্ড নেই বা বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধন করতে পারবেন না, তাদের জন্য  বিকল্প উপায়ও রয়েছে! এই জুয়া সাইটগুলির জন্য বাংলাদেশে প্রচুর এজেন্ট রয়েছে এবং তারা ডলারের মুদ্রায় অর্থ প্রদানে সহায়তা করে।

 

জুয়ারির উপর অনলাইন জুয়ার প্রভাব 

 

অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত কোনও ব্যক্তি অতিরিক্ত চাপ, উদ্বেগ এবং হতাশাগ্রস্ত বোধ করতে পারে। এটি তাদের ঘুম, চিন্তাভাবনা এবং সমস্যার সমাধান আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 

জুয়ার আসক্তি চুরির মতো বিভিন্ন অসামাজিক কাজের দিকে পরিচালিত করতে পারে। এটি পারিবারিক সমস্যা তৈরি করে। জুয়ারিরা মানুষের ঋণ এ পড়ে হতাশায় ভোগে  । 

 

যারা অরিরিক্ত জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পরে তাদের  এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেশি । যাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা (হতাশার মতো) বা অতিরিক্ত আসক্তি রয়েছে তাদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবনতা অনেক বেশি । 

 

জুয়ার আসক্তি রোধ করার উপায়

একটি সীমা নির্ধারণ করুনঃ  একজন আসক্ত জুয়াড়িকে তাদের যে পরিমাণ সময় কাটাতে হবে তার একটি সীমা নির্ধারণ করা উচিত ,  এই সীমায় পৌঁছানোর পরে তারা যতই বাধ্যতামূলকভাবে খেলতে বাধ্য হোক না কেন, তাদের নিজেদের থামানো উচিত।

 

পরিবারের সমর্থন পান; একজন আসক্ত জুয়াড়ী তাদের পরিবার বা বন্ধুদের সাথে তাদের সমস্যা সম্পর্কে কথা বলা উচিত। তাদের অবশ্যই পরিবারের  সাথে আরও বেশি সময় ব্যয় করতে হবে যাতে তারা জুয়া খেলা থেকে দূরে থাকতে পারে।

 

অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত হওয়া ; জুয়ার আসক্তি রোধ করার অন্যতম সেরা উপায় হ’ল খেলাধুলার মতো অন্যান্য ক্রিয়াকলাপে যুক্ত হওয়া । 

 

বিশেষজ্ঞের সহায়তার সন্ধান করুনঃ যদি কোনও ব্যক্তি যদি মনে করেন যে তিনি নিজেরাই সমস্যাটি পরিচালনা করতে অসুবিধে বোধ করছেন  বা পারছেন না তবে তাদের উচিত পেশাদারের সহায়তা নেওয়া। কৌনিটিভ বেহেভিওরাল থেরাপি (সিবিটি) জুয়ার আসক্তি রোধ বা চিকিত্সা করার ক্ষেত্রে খুব কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। 

 

বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া খেলা রোধ করা

 

করোনা মহামারি  বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। যেহেতু আমাদের দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর  একটি বিশাল অংশ এই মুহুর্তে বেকার এবং সময় নষ্ট করার জন্য আরও সময় পেয়েছে, তারা অর্থ উপার্জনের শর্টকাট উপায় হিসাবে জুয়া খেলা বেছে নিচ্ছে , যা অবশেষে তাদের অভ্যাসে রূপান্তরিত হতে পারে।

 

সুতরাং, ভবিষ্যতের প্রজন্মকে জুয়ার জগতে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের উচিত যত বেশি বিদেশী জুয়া সাইট আছে তা বন্ধ করার  উদ্যোগ নেওয়া।

 

অনলাইন জুয়ার খারাপ  প্রভাব সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা প্রচারণা সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। তাই  সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাগুলোর  এই মারাত্মক আসক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এটি কোনওভাবেই মাদকের আসক্তি চেয়ে  কম নয়। এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারকে সবচেয়ে কার্যকর হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

 

বর্তমানে জুয়ার সাথে জড়িত থাকার শাস্তি খুব কম। অবৈধ জুয়া খেলায় জড়িত জুয়াড়ীদের ১০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হবে। অনলাইন জুয়াড়ীদের কোনও উল্লিখিত জরিমানা না থাকায় আইনটি অনেক লঘু। এই কারণেই গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জুয়া খেলায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং অনলাইন জুয়ার প্রবণতা বৃদ্ধিকে রোধ করার জন্য জুয়া আইন সংশোধন করতে হবে।

 

Leave a Reply

Know More

অনলাইনে আপনার অর্থ সুরক্ষিত করা: একটি নিরাপদ অনলাইন এবং মোবাইল-ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন।অনলাইনে আপনার অর্থ সুরক্ষিত করা: একটি নিরাপদ অনলাইন এবং মোবাইল-ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন।

প্রযুক্তির অগ্রগতি, অনলাইন এবং মোবাইল-ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের প্রবর্তনের সাথে, আমরা এখন   কেবলমাত্র একটি ক্লিকের মাধ্যমে আমাদের অর্থের অ্যাক্সেস পেতে পারি। COVID-19 কে মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী লকডাউন ব্যবস্থা চালু করার ফলে ,

টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এর গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তাটু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এর গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা

 দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন কাজে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যাবহার করে থাকি। এক্ষেত্রে অনেক সময় অনলাইনে শেয়ার করা বিভিন্ন তথ্য নিরাপদ এবং সুরক্ষিত রাখার জন্য Two Factor Authentication এর গুরুত্ব অনেক